দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনে ঋণ ও আমদানিনির্ভর হয়ে পড়া ভঙ্গুর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই কাজে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সব ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা।’ দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
বিএনপির বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে, এসডিজি বাস্তবায়নেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসডিজির ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ নীতির সঙ্গে সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির মিল রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলো এসডিজির মূল অগ্রাধিকারের প্রতিফলন।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সুসংহত করতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ বা থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
‘এসডিজি ভিলেজ’ কর্মসূচির আওতায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগরকে প্রাথমিকভাবে পাইলট মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ‘ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট’, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গ্রামেও তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসডিজি ভিলেজ সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উন্নয়ন মডেল হিসেবে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।
এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা থাকবে। মানবিক রাষ্ট্রে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার সর্বজনীন হবে এবং কল্যাণ রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সবাইকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এমএম/